প্রশ্নগুলোর নিচে দেখব যে, লেখা রয়েছে ‘আরবী বলো।’

উপরের এই বাক্যাংশগুলোর আরবী বলতে হবে।

আমরা এখন এই বাক্যাংশগুলো লক্ষ্য করি। দেখব যে, এখানে জোড়ায় জোড়ায় যে বাক্যাংশগুলো রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার প্রথম অংশ একরকম আর দ্বিতীয় অংশ আরেকরকম। প্রথম অংশে শুধু ইসমুল ইশারা-মুশারুন ইলাইহি রয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশে সেই ইসমুল ইশারা-মুশারুন ইলাইহিকে মুযাফ ইলাইহি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার শুরুতে একটা মুযাফ বসাতে হবে। এই বিষয়টা লক্ষ্য করলে উপরের বাক্যাংশগুলোর আরবী করতে আমাদের কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ্‌।

যেমন, একটা নমুনা দেখি যে কিভাবে আরবী করতে হবে?

প্রথম বাক্যাংশটি হচ্ছে, এই কামরা।

‘এই’ শব্দের আরবী কী?

এই শব্দের আরবী আমরা এসো আরবী শিখি কিতাবে শব্দার্থ হিসেবে পড়িনি।

প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ের চতুর্থ পাঠে আমরা ‘এই’ শব্দের আরবী পড়েছিলাম নিয়ম হিসেবে।

নিয়মটি কী?

هذا-هذه এর পরবর্তী শব্দ ال-যুক্ত না হলে অর্থ হবে ‘ইহা’ বা ‘এটি’ আর ال-যুক্ত হলে অর্থ হবে ‘এই’।

তাহলে ‘এই’ শব্দের আরবী পাওয়া গেলهذا-هذه । এখন ‘কামরা’ শব্দের আরবী হচ্ছে غرفة।

তবে غرفة এর শুরুতে لل-যুক্ত করে বলতে হবে هذه الغرفة। কেননা ال যদি যুক্ত না করি তাহলে অর্থ হয়ে যাবে ‘ইহা একটি কামরা।’

তাহলে هذه الغرفة হচ্ছে ‘এই কামরা’ এর আরবী।

পরবর্তী বাক্যাংশটি হচ্ছে, এই কামরার দরজা।

এখানে ‘কামরা’ শব্দের শেষে ‘র’ আছে, তাতে ‘এই কামরার’ অংশটুকু হচ্ছে হচ্ছে মুযাফ ইলাইহি। আর র-যুক্ত শব্দের পরে এসেছে ‘দরজা’ শব্দটি। তাই ‘দরজা’ শব্দটি হচ্ছে মুযাফ।

এখন দরজা শব্দের আরবী হচ্ছে باب । আরবীতে সবার আগে যেহেতু মুযাফ বসে, তাই باب শব্দটিকে সবার আগে বসাব। তারপর বসাব هذه الغرفة (এই কামরার)- এই মুযাফ ইলাইহিকে। তাহলে এই কামরার দরজা এর আরবী হচ্ছেঃ

باب هذه الغرفة

এই নিয়মে আমরা পরবর্তী বাক্যাংশগুলোর আরবী বলব ইনশাআল্লাহ্‌।

একটা কাজ করুন।

উপরের সবগুলো বাংলা বাক্যাংশ এবং সেগুলোর আরবী একটা খাতায় লিখুন। তারপর নিচে (‘মিলিয়ে দেখুন’ লেখা অংশে) ক্লিক করুন।

তারপর

তারপর এই পৃষ্ঠার নিচের অংশে এবং পরবর্তী শুরুর অংশে দেখব যে, বেশ কিছু বাক্য রয়েছে।

পূর্বে যে নিয়ম ও শব্দার্থ আমরা পড়েছি, সেগুলো যদি আমাদের মনে থাকে, তাহলে এই বাক্যগুলো পড়তে এবং বাক্যগুলোর তরজমা করতে আমাদের কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ্‌। হরকতবিহীন বাক্যগুলো আমরা অনায়াসেই পড়তে পারব এবং নিজেরাই তরজমা করতে পারব ইনশাআল্লাহ্‌।

যেমন, উপরে যে বাক্যগুলোর ছবি দেওয়া আছে, তার মধ্যে সর্বশেষ বাক্যটি দেখি।

দেখি কিভাবে এই বাক্যটি পড়া হবে এবং তার তরজমা করা হবে।

বাক্যটি হচ্ছেঃ

صاحب هذه الجريدة كاتب مشهور

এখানে প্রথম শব্দ হচ্ছে صاحب, এই শব্দের শেষে ‘এক পেশ’ দিয়ে পড়ব।

শব্দটি যখন মুখস্থ করেছিলাম, তখন শব্দটির শেষ হরফে দুই পেশ ছিল। আমরা পড়েছিলাম, একটি শব্দ আমরা যেভাবে মুখস্থ করেছি, সেভাবেই পড়তে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিবর্তনের কারণ পাওয়া যায়। আর কোন শব্দে যদি পরিবর্তনের কারণ পাওয়া যায়, তাহলে শব্দটির শেষ হরফের হরকতে পরিবর্তন করতে হয়।

এখন صاحب এই শব্দটিকে পরিবর্তন করে পড়ার একটি কারণ আমরা খুঁজে পেয়েছি। আর সেটি হচ্ছে, এই শব্দটি হল মুযাফ। আর মুযাফের শেষ হরফে তানবীন হতে পারে না। এই কারণে শব্দটির শেষ হরফে দুই পেশের স্থলে এক পেশ দেওয়া হবে।

তারপর আছে هذه শব্দটি। এই শব্দটি এবং এর সাথে আরো যে তিনটি ইসমুল ইশারা আমরা মুখস্থ করেছি, সেগুলো আজীবন সেভাবে পড়ব, যেভাবে আমরা সেগুলো মুখস্থ করেছি। কখনোই এই শব্দগুলোর হরকতে কোন পরিবর্তন হবে না।

তারপর রয়েছে الجريدة শব্দটি। এই শব্দটির শেষ হরফে ‘এক যের’ দিব।

যের দিব এই কারণে যে, শব্দটি মুযাফ ইলাইহি। আর দুই যের না দিয়ে এক যের দিব এই কারণে যে, শব্দটির শুরুতে ال রয়েছে। আর আমরা পূর্বেই পড়েছি, যে শব্দের শুরুতে ال থাকে, সেই শব্দের শেষে তানবীন হয় না।

আর তার পরবর্তী দুইটি শব্দ হচ্ছে, كاتب مشهور এবং এই শব্দ দুইটিকে আমরা যেভাবে মুখস্থ করেছি অর্থাৎ, শেষ হরফে দুই পেশ সহকারে, সেভাবেই আমরা শব্দটি দুইটি পড়ব, যেহেতু এখানে শব্দ দুইটিকে পরিবর্তন করে পড়ার কোন কারণ পাওয়া যায়নি।

তাহলে এই বাক্যের শব্দগুলোর হরকত কেমন হবে দেখি।

صَاحِبُ هَذِهِ الْجَرِيْدَةِ كَاتِبٌ مَشْهُوْرٌ

আর তরজমা?

প্রথমে صَاحِبُ هَذِهِ الْجَرِيْدَةِ অংশের তরজমা- এই পত্রিকার সম্পাদক।

তারপর كَاتِبٌ مَشْهُوْرٌ অংশের তরজমা- একজন প্রসিদ্ধ লেখক। এখানে كَاتِبٌ (লেখক) হচ্ছে মাওসূফ এবং مَشْهُوْرٌ (প্রসিদ্ধ) হচ্ছে সিফাত। আরবীতে মাওসূফ আগে বসলেও বাংলায় সিফাতের তরজমা আগে করা হয়েছে। মাওসূফ-সিফাতের তরজমার এ নিয়মটি আমরা পড়েছিলাম, প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠে।

মনে আছে তো নিয়মটি?

এভাবে বাকীসব নিয়ম মাথায় রাখুন। হরকতবিহীন বাক্যগুলো পড়তে এবং তরজমা করতে কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ্‌।

এখন কয়েকবার করে বাক্যগুলো পড়ে তরজমা করুন। তারপর নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে যাচাই করুন যে পড়াটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা?

#1. امام هذا المسجد عالم كبير বাক্যটির অর্থ লিখুন।

#2. رائحة تلك الزهرة طيبة বাক্যের طيبة শব্দের শেষ হরফে কোন হরকত হবে?

#3. دكان هذا التاجر في سوق المدينة বাক্যের سوق শব্দের শেষ হরফে যের হবে, কারণ......

#4. صديق هذا الرجل تاجر المدينة বাক্যটির অর্থ লিখুন।

finish

Results

আলহামদুলিল্লাহ

বুঝা যাচ্ছে যে, আপনি ঠিকমতো বাক্যগুলো পড়তে ও তরজমা করতে পারছেন। নিশ্চিন্তে সামনের পড়াগুলো পড়তে পারেন।
প্রথম খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়, প্রথম পাঠ

একটু মনোযোগ দিন

কেন ভুল হয়েছে? কী ভুল হয়েছে?

নিজে বুঝার চেষ্টা করুন।

না বুঝলে উপরের প্রশ্নগুলো আবার দেখুন। সঠিক উত্তর সেখানে দেখা যাবে। তবুও না বুঝলে পূর্বের নিয়ম ও শব্দার্থগুলো আবার পড়ুন।

প্রথম খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়, প্রথম পাঠ

(এই লেখার পরবর্তী অংশটুকু পড়তে নিচে থাকা 5 লেখা বাটনটিতে ক্লিক করুন।)

প্রথম খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়, প্রথম পাঠ

6 thoughts on “প্রথম খণ্ড, তৃতীয় অধ্যায়, প্রথম পাঠ

  • September 4, 2020 at 1:51 pm
    Permalink

    জি ভাইয়া এভাবে দিলে হবে তবে যে রুলসগুলো দিয়েছেন রুলস এর সাথে ইংরেজি রুলসের যে পরিভাষাগুলো মিল খায় সেগুলো লিখলে বুঝতে সহজ হবে বলে মনে হয়েছে

    Reply
    • September 4, 2020 at 2:19 pm
      Permalink

      এই বিষয়টা মাথায় রাখব ইনশাআল্লাহ্‌।

      Reply
  • September 4, 2020 at 2:22 pm
    Permalink

    মাশাআল্লাহ আপনার এই উদ্যোগটি সহজ এবং বোধগম্য হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

    Reply
    • September 4, 2020 at 2:26 pm
      Permalink

      আলহামদুলিল্লাহ্‌।
      শুকরিয়া ভাই।

      Reply
  • June 15, 2021 at 9:16 am
    Permalink

    জাঝাকাল্লাহু খইর

    Reply
  • June 29, 2021 at 4:03 am
    Permalink

    পড়ানোর পদ্ধতি খুবই উপকারী, মাশাআল্লাহ।
    এত দেরীতে এই সাইটের খোঁজ পাওয়ায় বেশ কিছুটা আফসোস ই লাগছে।

    ছোট্ট একটি অনুরোধ,
    শুরু থেকে বেশ অনেকগুলো নোট এর ই পিডিএফ ফাইল পেলাম না। ভেবেছি লেখাগুলো কপি করে পিডিএফ ফাইল করে প্রিন্ট করে নিব। কিন্তু লেখা সাইট থেকে কপি করা যাচ্ছেনা।
    অনুগ্রহ করে সবগুলো নোট এবং কম্পেয়ার ফাইলের পিডিএফ কপি আপলোড করে দেয়া হলে খুবই ভাল হত।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এত সুন্দর পাঠ তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *